মা-------
“খোকা মাকে শুধায় ডেকে– ‘এলেম আমি কোথা থেকে, কোন্খানে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে।’ মা শুনে কয় হেসে কেঁদে খোকারে তার বুক বেঁধে– ‘ইচ্ছা হয়ে ছিলি মনের মাঝারে’।…… ………………… ………………… যৌবনেতে যখন হিয়া উঠেছিল প্রস্ফুটিয়া, তুই ছিলি সৌরভের মতো মিলায়ে, আমার তরুণ অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে ছিলি সঙ্গে সঙ্গে তোর লাবণ্য কোমলতা বিলায়ে।……” ( - “জন্মকথা” – রবীন্দ্রনাথ।) এই পংক্তিগুলো যেসময় প্রথম পড়েছি বা আবৃত্তি করে শুনিয়েছি কাছের মানুষদের, তখন আমার ছেলেবেলা। এমন একটা দার্শনিক কবিতার অর্থ বোঝার বয়স তখন নয়। ছন্দে সুরে অকারণেই উচ্চারণ করেছি বারংবার। অনেক পরে, যখন স্কুল পেরিয়ে কলেজে……যখন হাল্কা চটুল রসের গল্পে আস্তে আস্তে বুঝছি প্রকৃতির সৃষ্টি রহস্য। ফুল থেকে ফল। অঙ্কুরিত মুকুলের বৃক্ষ হ’য়ে ওঠা। যৌবনে ক্রমশঃ পেকে উঠছিলাম এক নিষিদ্ধ রহস্যময়তায়, নারীদেহের অদৃশ্য কল্পিত বর্ণনায়— হয়তো তার কিছু আগেপিছে হঠাৎ করেই আবৃত্তি করতে গিয়ে চেতনায় লাগল ধাক্কা ! “যৌবনেতে যখন হিয়া / উঠেছিল প্রস্ফুটিয়া, / তুই ছিলি সৌরভের মতো মিলায়ে,” এই পংক্তিগুলো বয়ে আনলো আলো… জীবনের, সৃষ্টির। “আঠাশ দিনের মাথায় আমার রক্তকলস পূর্ণ...