আমি
মুক্তি -
বেশ লাগছে। মুক্তির ছোঁয়া। আটত্রিশ বছর দু মাস টানা চাকরী তথা একঘেঁয়ে কর্মজীবনের থেকে নিস্কৃতি পেয়ে। বাঁচার জন্যে চাকরীটা করতেই হয়েছিল। এখন আর সেটার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। যা পেয়েছি আমার কোম্পানী থেকে আশা করি তাতে ডাল-ভাতের সংস্থান হয়ে যাবে। তবে ওষুধের খরচা বাড়বে। সে যাই হোক, মুক্ত এখন। মনে, অন্তরে।
এবার অন্তরাত্মা যা চায় তাই করবো। হাসবো, কাঁদবো, উদভ্রান্তের মতো ছুটোছুটি করবো। ভালবাসবো, সব কিছুকেই নতুন করে পাওয়ার আশায়। গাছের পাতা এখনো সবুজ আছে। এই বিষন্ন সময়েও তারা রোজ রোজ অঙ্কুরিত হচ্ছে। ফুল ফোটাচ্ছে আমার জানলার পাশে স্বর্ণচাঁপা গাছটা। এখনো সোনালী চাঁপার গন্ধ আমাকে বিহ্বল করে তোলে গ্রীষ্মের দখিন বাতাসে। ছাত্র জীবনে পড়া সেই লবটুলিয়া বইহার এখনো টানে আমায়। দেখি, যদি কোনোদিন যেতে পারি তবে নিশ্চই দেখতে পাবো যুগলপ্রসাদের সযত্নে রোপিত, কত না রঙীন ফুলগাছের উত্তরসূরীরা আজ আলো করে রেখেছে সেই লবটুলিয়া প্রান্তর।
দেখা করতে ইচ্ছে করে ইন্দ্রনাথের সাথে। দেখা হলেই চাইবো তার পকেটে রাখা সেই শুকনো পাতা। চিবিয়ে নিলে যা নেশা ডেকে আনে। সেই সিদ্ধি। শুনতে চাইবো রাতের অন্ধকারে তার সেই বাঁশীর রামপ্রসাদী সুর। যে সুরে আজও আচ্ছন্ন হয়ে আছে পিসীমাদের দল। আর পিসেমশাই’রা তো কবেই হারিয়ে গেছেন আমাদের পাড়াগুলো থেকে ! লাঠি বা সড়কি আজ আর কে আনবে, একমাত্র সমাজ যাদের বিরোধী করেছে তারা ছাড়া !
ইন্দ্র’র সাথে খুব খুব দেখা করতে ইচ্ছে করছে এখন। কেন জানেন ? তাকে না পেলে যে দেখা হবে না আমার যৌবনের স্বপ্ন সেই অন্নদা’দিদিকে। প্রেমের জন্য শাজাহান হয়ত তাজমহল তৈরী করে আজও মমতাজ বানু’কে বাঁচিয়ে রেখেছেন পৃথিবীর সব প্রেমিকের হৃদয়ে দোলা দেবার জন্যে, কিন্তু তার চেয়েও অনেক, অনেক কঠিন ভালবাসায় একদিন এক ব্রাহ্মণকন্যা ঘর ছেড়েছিল এক মুসলমান সাপুড়ের হাত ধরে, সে কথা জানেই বা কজনা ! সারাটা জীবন ধরে তার প্রেমিকের ভালবাসার মূল্য চুকিয়ে গেছে তিল তিল করে। সেকথা ইন্দ্র ছাড়া আর এমন করে জানেই বা কে ?
মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্ট এর অজস্র সাদা তেউড়ি ফুলের সোঁদা গন্ধে আকুল হবো এইবার। কিংবা আকুল করা শ্রাবণ-পূর্ণিমায় রাজা দোবরু পান্না’র নিমন্ত্রন রক্ষা করতে যেতেই হবে আমায় এইবার। ফেরার পথে সরস্বতী কুন্ডে না হয় খুঁজে বেড়াবো আমার সারাজীবনের প্রিয় নায়ক সেই যুগলপ্রসাদ’কে।
আর নয়। এবার যেতেই হবে।
©গৌতম দত্ত
৫ই মে, ২০১৬
