শাপমোচন
১৯৫৫।
ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের 'সন্ধ্যারাগ' উপন্যাস অবলম্বনে সুধীর মুখার্জী নির্মাণ করেন দুর্দান্ত এক রোমান্টিক ছবি “শাপমোচন”। যে ছবির আবেদন বাঙালি দর্শকের কাছে আজও অম্লান।
চিত্রনাট্যকার নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। গীতিকার কবি বিমল ঘোষ। ‘শাপমোচন’ সিনেমার ছ-ছখানা গান এখনো বাঙালি গুনগুন করেই অল্প আবেগে বুঁদ হলেই। গানের ব্যাপারে পরে আসছি। আগে ছোট্ট করে গল্পটা বলে নিই।
জমিদারবাড়িতে গানের আসরে খেয়াল গাইছেন গোবিন্দরাম। সে স্থানে এসে উপস্থিত গোবিন্দরামের সুরের গুরু। তিনি জমিদারকে আনন্দে বলতা যান যে গোবিন্দরাম তাঁরই শিষ্য। কথাটা পছন্দ হয় না শিল্পীর। অস্বীকার করে গোবিন্দরাম। সভার মাঝে অপমানিত হয়ে গুরু অভিশাপ দেন তাকে। ‘গোবিন্দরামের বংশে যে কেউ সংগীতচর্চা করবে হয় তাঁর অকালমৃত্যু হবে নয়তো সারাজীবনের পঙ্গুত্ব’। পুনরায় গান শুরু হলে গলায় রক্ত উঠে মারা যায় গোবিন্দরাম। অভিশাপের অকালমৃত্যু শুরু হয়ে যায়।
এর পরে ছেলের মৃত্যু। আর তারপরে বড় নাতি সংগীতচর্চা শুরু করলে অন্ধ হয়ে যায় সেই গুরুর অভিশাপে। অন্ধ দাদা দেবেন্দ্র’র (পাহাড়ী সান্যাল) নিদারুণ দুর্দশাগ্রস্ত সংসারের হাল ফেরাতে ছোটভাই মহেন্দ্র (উত্তমকুমার) হাজির হয় কলকাতা শহরে। কলকাতা আসার আগে অন্ধ দাদা প্রতিজ্ঞা করিয়ে নেয় ছোটো ভাইকে। সে যেন কলকাতায় গান গাইবার নাম করে এই অভিশাপের ভাগী না হয়।
গ্রামের সরল আর শিক্ষিত মহেন্দ্র আসে কলকাতায়, বাবার বন্ধু উমেশবাবুর (কমল মিত্র) বাড়িতে। উমেশবাবুও তাকে স্বাগত জানায় পিতৃস্নেহে। তার মেয়ে মাধুরী (সুচিত্রা সেন) এই সরল গরীব ছেলেটিকে প্রথম থেকেই পরম উৎসাহ আর আন্তরিকতায় গ্রাম্য মহিনকে নিখাদ শহুরে করার ভার নেয়। মহেন্দ্রকে ধুয়ে মুছে সাফ করার প্রচেষ্টা শুরু হয়। গল্প এগোতে থাকে নিজস্ব গতিতে।
অবাক হতে থাকে মহেন্দ্র কলকাতা শহরে। কাজের সন্ধানে ঘুরতে গিয়ে অভিজ্ঞতা বাড়তেই থাকে। একদিন অচেনা একজন কানের কাছে এসে বলে— গান গাইতে পারেন ? তাহলে হাইকোর্টের জজের চেয়ে বেশী উপায় করতে পারেন। দ্বন্দ শুরু হয় বেহালার ছড়ে।
সুর শুরু হয়। দাদার প্রতিজ্ঞা সম্পূর্ণ রাখতে গিয়ে মহেন্দ্র যন্ত্র তুলে নেয় হাতে। অপদার্থ মহেন্দ্রকে নিয়ে মাধুরী’র স্বপ্ন দেখায় ছেদ পড়ে। মহেন্দ্র ঘর ছাড়ে। মাধুরী হারায় তার মহীন’দাকে।
একজনকে দশ টাকার সাহায্য করতে গিয়ে প্রতিজ্ঞা ভুলে যায় মহীন। এক ভিখারি বাউলের হ’য়ে গান গেয়ে ফেলে একদিন শহরের এক রাস্তার মোড়ে। ঝপাঝপ পয়সা পড়ে সেই বাউলের চাদরে। সেখান থেকে দশ টাকা তুলে নিয়ে বাকি টাকা বাউলকে দিয়ে দেয় মহীন।
‘চিনি চিনি করি চিনিতে না পারি’ বলে মেসের খোঁজে আসা মহীনকে বুকে জড়িয়ে নেয় ‘ক্যালক্যাটা মেস’ এ থাকা এক গান পাগল। চাঁদা তুলে থাকার ব্যবস্থা হয় মহীনের সে মেসে। তার গলার যাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ সব্বাই। জমে ওঠে মেসবাড়ি। চিঠি আসে উমেশবাবুর কাছে মেসবাড়ি থেকে। উমেশবাবুর গাড়ি পৌঁছে যায় মেসে। রীতিমত নাটক শুরু হয়। নতুন ঘর ভাড়া নেওয়া হয় ৫ নং, ঘোষ লেনে।
অভিশাপের কথা জানতে পারে মাধুরী। কুসংস্কার বলে বারবার বোঝাতে থাকে মাধুরী। স্থির হয় কথা। মাধুরী’র উৎসাহে রেকর্ড বেরোয় মহীন্দ্র’র। টাকা পৌঁছয় চণ্ডীপুর গ্রামে।
এদিকে মাধুরী’র আশীর্বাদ করতে আসেন রাজাবাহাদুর। উপায়ান্তর না পেয়ে মাধুরী বলে বসে তার স্বামী আছে। রাজাবাহাদুর রেগে প্রস্থান করলে উমেশবাবু জানান যে মহীনের বাবাকে নাকি তার কথা দেওয়া ছিল মাধুরীকে তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।
এদিকে চরম এক দুর্ঘটনা ঘটে যায় মাধুরীর মনে। নাটক মোচড় দেয়। এক মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনে সিনেমার চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স শুরু হয়। চণ্ডীপুর গ্রামের এক বাড়িতে বসে রেডিওতে দেবেন্দ্র শোনে মহীনের গান। চেনা চেনা গলা শুনে দ্বিধাদ্বন্দে খানখান হয়ে যায় দেবেন্দ্রর সারা শরীর। বাউল বাতাসে তখন ঝড় উঠে গেছে। রেডিও’তে ঘোষণা হয় মহীন্দ্রে’র নাম। ঘরে ফিরতে ফিরতে তাড়া করে মহীনের গানের লাইনগুলো। ভাইয়ের অভিশাপ নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে দেবেন্দ্র শুরু ক’রে জীবনের শেষ গান।
খবর পেয়ে গ্রামে ফেরে মহীন, প্রবল জ্বর নিয়ে শরীরে। তারপরে চূড়ান্ত ড্রামায় ছবি শেষ হয়। অভিশাপ কাটে তানপুরার ভগ্নাংশে।
এ ছবিতেও প্রচুর গুণী শিল্পী সে সময়ের।
উত্তম
কুমার / পাহাড়ি সান্যাল / কমল মিত্র / বিকাশ রায় / জীবন বোস / অমর মল্লিক /
তুলসী
চক্রবর্তী / গঙ্গাপদ বসু / প্রেমাংশু বসু / নৃপতি চট্টোপাধ্যায় / শীতল ব্যানার্জী
/
সুচিত্রা
সেন / সুপ্রভা দেবী / তপতী ঘোষ / বনানী চৌধুরী / মনোরমা দেবী / রাজলক্ষী দেবী / আশা
দেবী এবং আরো অনেকে।
এ
ছায়াছবির কাহিনী ছাড়াও মূল আকর্ষণ এ ছবির সংগীত। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলচ্চিত্রটির
সংগীত পরিচালক ছিলেন এবং গানের সুর করেছেন। গানের কথা লিখেছেন বিমল ঘোষ (কবি বিমল চন্দ্র
ঘোষ হিসাবে)। গানগুলি গেয়েছেন : প্রতিমা বন্দোপাধ্যায়
/ চিন্ময় লাহিড়ী / শ্যামল মিত্র / হেমন্ত মুখোপাধ্যায় / ডিভি পালুস্কর
গানগুলি
হ’ল –
১) কলিয়ান সাঙ করতা
২) ত্রিবেণী তীর্থপথে কে গাহিল গান
৩) হারাই হারাই করিস নি রে
৪) শোনো বন্ধু শোনো
৫) বসে আছি পথ চেয়ে
৬) সুরের আকাশে তুমি যে গো
৭) ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস
৮) মরণের বেশে এসেছ যদি গো
আনন্দবাজারে প্রকাশিত প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে নিয়ে তাঁর জীবনের গানগল্প নামক এক লেখায় চিরশ্রী মজুমদার লিখছেন—
“হেমন্তের সুরে ‘ত্রিবেণী তীর্থপথে কে গাহিল গান’-এ মাত করলেন প্রতিমা। আচার্য চিন্ময় লাহিড়ীর কুশলী গায়নের পাশে স্বকীয়তায় উজ্জ্বল তিনি। সকলে একমত, এ গানের সূক্ষ্ম কারুকাজে তাঁর বিচরণ বড় সহজ। তাতে বিন্দুমাত্র কালোয়াতি আড়ম্বর নেই, নেই নিজেকে জাহির করার প্রচেষ্টা। এমন শক্ত গানকে প্রতিমা নিজ নির্মলতার গুণে মধুরকোমল করে তুলেছেন। এই গানে লিপ দেওয়াও ছিল কঠিন। তাই বারবার প্রতিমার সাহানগরের বাড়িতে চলে আসতেন সুচিত্রা সেন। যেখানে নাকি দিবারাত্র রেওয়াজে ডুবে থাকেন গায়িকা। সেতারের ঝঙ্কারের সঙ্গে মিলিয়ে গানের ওঠানামা, কণ্ঠভঙ্গিমা আয়ত্ত করতে মহানায়িকার বেশি সময় অবশ্য লাগল না। তিনি নাকি কেবলই প্রতিমার কাছে আবদার করতেন ‘যদুভট্ট’ ছবির ‘বাবুল মোরা নৈহার ছুটো হি যায়’ গানটি শোনাতে। নবাব ওয়াজ়িদ আলি শাহের হৃদয়ের রক্তে লেখা এই গানটিতে যুগে যুগে সেরা শিল্পীরা কণ্ঠদান করেছেন। বেগম আখতার, কুন্দনলাল সায়গল, গিরিজা দেবী, ভীমসেন জোশি, জগজিৎ সিংহ সকলেরই সেরা অ্যালবামে এই ভৈরবী-ঠুমরি থাকবেই। এমন গানটি গাইবার বরাত পেয়েই প্রতিমা তাতে ঢেলে দিয়েছিলেন তাঁর বিখ্যাত ইনোসেন্স। এই রাগসঙ্গীতটিই তাঁকে প্রথম বার বিএফজেএ সম্মান এনে দেয়। কয়েক বছর পরে তিনি ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এ কিংবদন্তি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতসাধক উস্তাদ আমীর খানের সঙ্গে গাইবার সুযোগ পেলেন। ‘ক্যায়সে কাটে রজনী ইয়ে সজনী’তে ক’টিমাত্র পঙ্ক্তি তাঁর। তাতেই ইতিহাস। ”
ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর iebangla নামের এক ওয়েব-পেজ এ শাঁওলি দেবনাথ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কে নিয়ে “বাংলার বহু সুরের ধারাকে পৌঁছে দিয়েছিলেন ভারতীয় সিনেমার দর্শকের কাছে” শীর্ষক এই লেখায় বলছেন—
“আগামী পৃথিবী, সে যে কোনও টাইম রেফারেন্সেরই আগামী হোক না কেন, কান পেতে তাঁকে শুনবে। সেই শোনার কোনও শেষ নেই।
ভারতীয় সিনেমা, বিশেষত বাংলা ছবির জগত হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে ছাড়া অসম্পূর্ণ ছিল। যে কোনও গানই সৃষ্টি, কিন্তু কিছু সৃষ্টি এমনই হয় যা অপরিহার্য। তাঁর কণ্ঠস্বর যেমন অপরিহার্য ছিল, তেমনই সঙ্গীত পরিচালনাও। ‘ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস’ বাদে ‘শাপমোচন’ ছবির ক্লাইম্যাক্স অসম্ভব। আবার একই সুর সম্পূর্ণ দুটি বিপরীত সিনেম্যাটিক সিকোয়েন্সে তিনি ব্যবহার করেছেন, আর দুটি প্রয়োগই দারুণ অভিঘাত তৈরি করে।
কম্পোজার হিসেবে বাংলা ও হিন্দি ছবি মিলিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৭ সালে, এবং শেষ হয় ১৯৮৯-তে তাঁর চিরবিদায়ের সঙ্গে। ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ বা আইপিটিএ-র সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন ১৯৪৩ সালে। সলিল চৌধুরী ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের যুগলবন্দীর সূত্রপাত সেখানেই। ১৯৪৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল সলিল চৌধুরীর কথায় ও সুরে ‘গাঁয়ের বধূ’। ওই সময় থেকেই বাংলা ছবিতে কম্পোজার হিসেবে হেমন্তের ডাক আসতে থাকে। ওদিকে হিন্দি ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম কাজ ছিল ‘আনন্দমঠ’ (১৯৫২)। পঞ্চাশের দশকে সেই যে এক নক্ষত্রের জন্ম হলো, তার পর থেকেই মৃত্যুকে অতিক্রম করে তিনি সুরের আকাশে ধ্রুবতারা হয়ে রয়ে গেলেন।
যাঁরা কালোত্তীর্ণ স্রষ্টা, তাঁরা নিজের সৃষ্টি নিয়ে কখনও সন্তুষ্ট হন না। সন্তুষ্টি বা তৃপ্তি আসলে একজন শিল্পীর শৈল্পিক জীবনের মৃত্যু ডেকে আনে। ‘শাপমোচন’ ছবির গানগুলি নাকি তাঁর নিজের একেবারেই পছন্দ ছিল না। একথা বহু সাক্ষাৎকারে বলেছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওই ছবির সব গান তাঁকে কম্পোজ করতে হয়। এই তাড়াহুড়োটা তাঁর একদম অপছন্দ ছিল, কিন্তু মুম্বই-কলকাতা অনবরত দৌড়ে বেড়ানো ‘হেমন্ত কুমার’ বা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের উপায় ছিল না। অথচ ওই ছবির প্রত্যেকটি গান মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে। আর ওই গানগুলি তিনি ছাড়া অন্য কেউ গাইলে ওই অভিঘাত অসম্ভব ছিল।……”
জানি বিরক্তি লাগছে এত গল্প পড়তে কিন্তু কি আর করি বলুন তো ? ভাল কিছু জানানোর বা পড়ানোর বা শোনানোর আশা যে এখনো ছাড়তে রাজি নইই।
শেষ করছি ‘শাপমোচন’ সিনেমার গানগুলোর কথা দিয়ে। আর প্রতি গানের তলায় রইল সে গানের ইউট্যুব লিংক। ক্লিক করলেই শুনে ফেলতে পারবেন এ সব চিরকালীন গানগুলি।
(১)
aaa
aaa aaa
aaa
aaa aaa
aaa
aaa aaa
aaa
aaa aaa
kaliyan
sang karta rang raliyaan
bhanwar
gunjaare phooli phulwaare
chahoon
oar mor bole
koyal
ki kook suni hook uthhi
kaliyan
sang karta rang raliyaan
kaliyan
sang karta
lehrat
leharaata
sab
birachhan mori
le
naar gadhwaa bharan aayi
aaj
baag mein pukaare
‘Kiniwaale
Ram’ bole
har
baar baar
kaliyan
sang karata rang raliyaan.
.
(এই
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতটি গেয়েছিলেন পণ্ডিত দত্তাত্রেয় বিষ্ণু পালুস্কর যিনি ডি. ভি. পালুস্কর
নামেই বেশি পরিচিত আমাদের কাছে)।
https://www.youtube.com/watch?v=vyCzqWhk6uw
(২)
ত্রিবেণী
তীর্থ পথে কে গাহিলো গান
জাগায়ে
করিলো মোর আকুল পরান।
শ্যাম
তরু ছায়াতলে ছিল বসে আঁখি জলে
আমার
নীরব গানের কে রচিল তান।।
কিবা
তব নামখানি আমারে শুধাও
না
বলা কথাটি মোর যায় শুনে যায়।
ওগো
মোর মরমীয়া
কথার
মালিকা দিয়া
নিঙ্গাড়ি ব্যাকুল হিয়া করিলে যা দান।
*(গানটি
গেয়েছেন চিন্ময় লাহিড়ী ও প্রতিমা ব্যানার্জী)
https://www.youtube.com/watch?v=8Z1YqRIK_m8
(৩)
হারাই
হারাই করিস নি রে।
হারাবি
তোর কি বা আছে –
ও
তোর অন্নহারা সন্নেসী মন
ঘুরছে
কেবল চড়ক গাছে।
দেশটা
যে তোর বোম ভোলানাথ
দোরে
দোরে পাতেন দু-হাত
গলায়
দোলে হাঁড়ির মালা
কানাকড়ি
নেই রে কাছে।
হারাবি তোর কি বা আছে॥
*(গানটি গেয়েছেন শ্যামল মিত্র। এই গানখানা আলাদা করে পাইনি। শুনতে হলে সিনেমাটাই দেখতে হবে)
(৪)
শোনো
বন্ধু শোনো
প্রাণহীন
এই শহরের ইতিকথা
ইটের
পাঁজরে, লোহার খাঁচায়
দারুণ
মর্মব্যথা॥
এখানে
আকাশ নেই
এখানে
বাতাস নেই।
এখানে
অন্ধ গলির নরকে
মুক্তির
আকুলতা॥
জীবনের
ফুল মুকুলেই ঝরে
সুকঠিন
ফুটপাতে
অতি
সঞ্চয়ী ক্রুর দানবের
উদ্ধত
পদাঘাতে
এখানে
শান্তি নেই
এখানে
সত্যি নেই।
প্রাসাদ-নগরী
যেন বিলাসের
নিদারুণ রসিকতা॥
*(শিল্পী – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়)
https://www.youtube.com/watch?v=heAD3c9gwgI
(৫)
বসে আছি পথ চেয়ে
ফাগুনেরও গান গেয়ে
যত ভাবি ভুলে যাবো
মন মানে না।।
বেদনার শতদলে স্মৃতিরও সুরভি জ্বলে
নিশীথেরও মন বিনা সুর জানে না।।
আজ তুমি নেই সাথে
ভুলে থাকা ছলনাতে
মনে মনে ভাবি শুধু তোমারি কথা
পাওয়া না পাওয়ার মাঝে
অচেনারও সুর বাজে
সুরভিত বিরহের মর্ম ব্যথা।
তুমি ওগো তুমি মোরে
বেঁধেছ যে মায়া ডোরে
সে বাঁধনে দু’নয়নে
ঘুম আসেনা।।
*(গানটি লিখেছেন বিমল ঘোষ আর গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়)
https://www.youtube.com/watch?v=sveOHu6leuk
(৬)
সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা
আমায় করেছো এ কি চঞ্চল, বিহ্বল, দিশাহারা।
অরুনাচলের বুকে তুমি জাগালে দিপ্তমুখে মহা
তমসায় আলোর ঝরনা ধারা
নব চেতনার রক্তকমল দলে
অগ্নিভ্রমর দিগন্তে জাগে রাগিনির পরিমলে,
মিছে হলো অভিসাপ, মোর জীবনের
সন্তাপ, কতো রজনীর অশ্রু তিমিরে
ভেঙেছে অন্ধকারা॥
*(গানটি লিখেছেন বিমল ঘোষ আর গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়)
https://www.youtube.com/watch?v=M9tq_TCmby4
(৭)
ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস আজকে হলো সাথী।
সাত মহলা, স্বপ্নপুরী নিভল হাজার ভাতি॥
রুদ্র বীণার ঝংকারেতে ক্ষুব্ধ জীবন উঠল মেতে।
সকল আশার রঙ্গিন নেশা ঘুচল রাতারাতি॥
আকাশ জুড়ে দীর্ঘশ্বাসে মাতন হলো শুরু।
সুরের স্বপন ভাঙল শুনে মেঘের গুরু গুরু॥
উড়ছে ভুলের ঘূর্ণি হাওয়া সকল চাওয়া, সকল পাওয়া।
শুকনো পাতার মর মরিয়া করছে মাতামাতি॥
*(গানটি লিখেছেন বিমল ঘোষ আর গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়)
https://www.youtube.com/watch?v=TD-_w54IG7c
(৮)
মরণের
বেশে এসেছ যদি গো
তোমারে
করি না ভয়।
জীবনের
শেষ গানে
গেয়ে
যাব তব জয়।
তব
জয়।
তব
জয়।
তব জয়।
*(এই গানখানা আলাদা করে পাইনি। শুনতে হলে সিনেমাটাই দেখতে হবে)
https://www.youtube.com/watch?v=WsqrtGh5kcU
(সমাপ্ত)
#
©গৌতমদত্ত
৩১ জুলাই ২০২০
#
কৃতজ্ঞতা :
১) উইকিপিডিয়া।
২) imdb.com
৩) রোর মিডিয়া
- শাপমোচন (১৯৫৫)
৪) শাঁওলি দেবনাথ
– “বাংলার বহু সুরের ধারাকে পৌঁছে দিয়েছিলেন
ভারতীয় সিনেমার দর্শকের
কাছে।”
- bengali.indianexpress.com
৫) চিরশ্রী মজুমদার – ‘একটা গান লিখো আমার জন্য’ – আনন্দবাজার অনলাইন।
৬) সারেগামা বেঙ্গলী’র ইউট্যুব চ্যানেল।
৭) গুগুল - ছবি এবং সামগ্রিক সূত্রের জন্য
