গর্ত -

         আমার তো মনে হয় প্রায় সব মানুষেরই কিছু না কিছু mania বা বাতিক থাকেই কারো কারো সেটা খুব প্রকট চোখে পড়ে, এমন কি স্মৃতিতেও বাসা বাঁধে তেমনই একটা স্মৃতি হঠাৎ করেই উদ্ভাসিত হলো

আবার সেই বাচ্চুদাকেই স্মৃতিতে আনি এই বাচ্চুদা নাকি প্রথম ডিভিশনে ফুটবল খেলতো এরিয়ান ক্লাবে আমার অবশ্য খুব সন্দেহ ছিল এই ব্যাপারে তা অনেক পরে, বাচ্চুদার এক পুরোনো দাদার সাথে আমার পরিচয় হয় তিনি কিছুটা আমার সন্দেহ মেটান যাক্সে গল্প না হয় আরেক দিন হবে আজকের গল্পের খেই টা শুরু করি বরং

আবার সেই বাচ্চুদার এক বিচ্চু বন্ধুর গপ্পো আমাদের অফিসের বাইরেও বাচ্চুদার এক বন্ধু গোষ্ঠী ছিল এই অফিস পাড়ায়, খেলার সুবাদে আর আমাদের এই চার্টাড ব্যাঙ্ক বিল্ডিং-টাই ছিল চার্টাড ব্যাঙ্কের মেন অফিস আর তখন ঐ চার্টাড ব্যাঙ্কের সাথে আমাদের অফিসের একাউন্ট ও ছিল তাই সময় পেলেই এসির হাওয়া খেতে আমাদের যাওয়া আসা আর আড্ডাও ছিল অনেকেরই সাথে

হঠাৎ খবর পাওয়া গেল, সেই বিচ্চু বন্ধুর বিয়ের বাসনা হয়েছে তখন সে রীতিমতো কলকাতার এই প্রথম ডিভিশন ক্লাবের প্রতিষ্ঠিত বোলার আর ব্যাঙ্কের চাকরী সুতরাং গল্প জমে উঠল

আমাদের এই শেয়ার মার্কেট পাড়ায় একটা মিষ্টির দোকান আছে রাইটার্স বিল্ডিং এর পেছনের ২ নম্বর গেটের ঠিক উল্টোদিকেই রয়েছে এইইন্ডিয়ান সুইটস এই মিষ্টির দোকানের ওপরেই ছিল একটা চশমার দোকান এখনো আছে কিনা জানিনা তা এই দোকান ছিল বাচ্চুদার এক ভাই কাম বন্ধু ধরা যাক, তার নাম অম্লান

বাচ্চুদার কাছে এসে বিচ্চু বন্ধু অচিরেই জানাল এই সংবাদ কথায় কথায় জানা গেল যে, সেই ভাগ্যবতীর বাড়ি ঐ অম্লানের পাশের পাড়াতেই ব্যস, আর যায় কোথায় অম্লানের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপলো ওই বাড়ির খবর সংগ্রহের সামাজিক বিবাহ বলে কথা !

বিচ্চু বন্ধু চেপে ধরলো অম্লান কে

ভাল করে দেখে এসো অম্লানদাবাড়ির পজিশনটা মনে রেখো তোমার ওপরেই সব নির্ভর করছে

আরে ঠিকাছে...ঠিকাছে

    পরদিন

    ডালহৌসী পাড়া ঘিরে প্রসন্ন নবীন
            জাগিল অফিস যত আড্ডাপ্রিয় লোক
            শিশিরসুস্নিগ্ধ যেন কেরানী আলোক
            বসিল বেষ্টন করি ক্যান্টিনঘরে -
            বাচ্চুদাকে ঘেরি

অম্লান এলো সেও আর এক বিষম বস্তু মানে যাকে বলে তেঁতুলে খচ্চর দোকানে কাকেও বসিয়ে রেখে এসেছে টিফিন করে, আড্ডা মেরে, আবার বসবে গিয়ে এর মাঝে সারা দিনের অক্সিজেন সংগ্রহ আমাদের এই বাচ্চুদার আড্ডায় 

বিচ্চু বন্ধুর আগমনে সবাই খুব উত্তেজিত এসেই অম্লান কে প্রশ্ন

এই অম্লানদা দেখলে বাড়ি ? আর কি কিছু খবর পেলে ?

হুঁম দেখলাম তো তুমি এগোতে পারো

আরে কি হল বলবে তো...

ভালোই লাগলো

আরে...কি কি দেখলে আর ? বলবে তো

দোতলা বাড়ি বুঝলে একতলায় একটা বসার ঘর আর সেখানে দেখলাম একটা হেঁপো রুগী মশারী টাঙিয়ে বসে আছে আর মশারীর ছাদে একটা বিরাট গর্ত আর সব এমনিতে ঠিকই আছে তুমি প্রসিড করতে পারো

অদ্ভুত তো !!! তুমি একটা...তোমার নিজের হলে বলতে পারতে ? তুমি আমাকে বললে, এই এত বড় মশারীর ফাঁক নিয়ে বিয়ে করতে !!!

##



©গৌতম দত্ত
৪ঠা এপ্রিল,২০১৬