Posts

Showing posts with the label ফিরে দেখা

ক্ষমা কোরো বাবা জগন্নাথো -

Image
  গেছিলাম নীলাচলে। জন্মাষ্টমী ’ র দিন জগন্নাথ আর সুভদ্রা অনেক দূর থেকে দর্শন হয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে সংস্কারের কাজ চলছে তাই   মন্দির-অন্দরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা। প্রায় নাট-মন্দিরের চাতাল থেকে দেখতে পেলাম জগন্নাথ আর সুভদ্রা ’ কে। ঘরাঞ্চি , মই ইত্যাদিতে আড়ালেই রইলেন বলভদ্র। এবারের নতুন অভিজ্ঞতা হল যে কিছু পুলিশ-পুঙ্গব মন্দিরের গর্ভগৃহ সামলাচ্ছেন এবং শুধু ঠেলা নয় , সেই কাঠির ঝাড়ু দিয়ে স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষের মস্তকে আঘাত করেই চলেছেন যা এতকাল একমাত্র মন্দিরের পাণ্ডারাই নিষ্পন্ন করতেন। জয় বাবা জগন্নাথঃ ! তোমার লীলা বোঝা ভার ! সত্যি সত্যিই দেখছি বাঙালী কাকে বলে ! স্বর্গদ্বারের সামনে যা ভীড় , তা হাতীবাগানকেও লজ্জা দেবে। বাঙালীদের বিচিত্র পোষাক দেখতে হলে আপনাদের অবশ্যই আসতে হবে পুরীতে। তিন ধরণের ড্রেস কোড দেখছি — নির্দিষ্ট হয়ে গেছে এখানে। অন্ততঃ আমি যে পাড়াটায় ছিলাম। এই স্বর্গদ্বার থেকে শ্মশান ছাড়িয়ে দুটি রাস্তা চলে গেছে সেই হাওয়া-কল ছাড়িয়ে , প্রায় মোহনা পর্যন্ত। সমুদ্রের ধার ঘেঁষে একটা চওড়া রাস্তা যার একদিকে সমুদ্র আর অপর দিকে সব হোটেল-এর সারি। আর একটি রাস্তা শ্মশানের সামনে দিয়ে দ...

টিফিনে দুধ -

Image
  অনেক দিন আগেকার কথা । ১৯৬০ সাল । স্মৃতি হাতড়ালে অনেক কথাই মনে পড়ে যায় ......... । উত্তর কলকাতায় আমাদের পৈত্রিক বাড়ী । ভরা সংসার আমাদের । যৌথ পরিবার । একটু বেশীই আদরের ছিলাম আমি । ঠাকুর্দারা তিন ভাই তখন আলাদা কিন্তু এক বাড়িতেই আলাদা আলাদা পার্টিশন । সুতরাং সবার ঘরেই আমার অবাধ গতি । তিন ঠাকুর্দা , তিন ঠাকুমা । কত লোকজন । আমার ঠাকুর্দা বড় । সেহেতু আমার ঠাকুমা ছিলেন কারোর মা , কারোর জেঠিমা । সবাইকে নিয়ে গমগমে থাকতো আমাদের বাড়ীটা । কত খেলার সাথী । এছাড়াও ছিল পাড়ার সবাই । গোটা পাড়াটাই যেন এক যৌথ পরিবার । এ কালের ছেলেমেয়েদের জন্য খুব কষ্ট হয় । বেচারিরা বুঝতেই পারলো না আদর কাকে বলে ! বাড়ীর অনতিদূরেই স্কুল । বাবা - কাকাদের ঐ স্কুলেই পড়াশোনা । অনেক প্রাচীন স্কুল । “ কেশব একাডেমী ” । তখনো ইংরেজী মিডিয়ামের রমরমা তো দূরস্থান ওসব কথা কেউ ভাবতো বলে মনে পড়ে না । ওটা ছিল ব্রাম্ভ সমাজের স্কুল । যার জন্য সরস্বতী পূজো হোতো পাশের একটা মন্দিরে । স্কুলের টিফিনে রোজ খেতে দেবার ব্যাবস্থা ছিল । পুরী - তরকারীই থাকতো বেশীর ভাগ দিন । টিফিনের ঘন্টা পড়ার একটু আগে দুজন এসে আমাদে...

জ্যোতি নিভে গেল—

 “.......হাহাকারকে গুঁড়িয়ে-গুঁড়িয়ে হাজার পা হাজার গলা ছিঁড়ে কেড়ে একটি হুঙ্কার আমাকে টানো : যেখানে কলে জল, মরা পিচের খাড়িতে জীবনের কোটাল যেখানে জীবন আলোর বেগের জলসা যেখানে জীবন আমার মিছিল যেখানে বে-ঠিকানা তোমার ময়দান পথে-ফেরানো মুখ ; আমার ভালবাসার মুখ।  আমাকে বাঁচাও /  আমাকে বাঁচাও / তুমি বাঁচো ; / কলকাতা, কলকাতা।       (___কলকাতা, কলকাতা – মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়।) পুড়ে গেল ‘ জ্যোতি ’ সিনেমা হল । পুড়ে খাক্ ‌ হয়ে গেল আমাদের যৌবনের আর এক চক্ ‌ মকি । ৩২ / ১ , ধর্মতলা স্ট্রীট ( এখন লেনিন সরণী ) । ১৯৩০ সালের তৈরী কলকাতার এই সিনেমা হলটিতে সত্তর মিলিমিটারের ফিল্ম দেখা যেত । প্রথম দিকে মূলতঃ ইংরেজি সিনেমাই বেশী দেখানো হত কিন্তু সবার কাছে ‘ জ্যোতি ’ পরিচিত হয়ে উঠল ১৯৭৫ সালে । সেই গব্বর সিং - এর “ শোলে ”- র সুবাদে । পরবর্তীকালে খুব সম্ভবতঃ ২০০৮ সাল থেকেই বন্ধ এই চিত্রগৃহটি । “ শোলে ” সিনেমাটি দেখার আগে আমার সত্তর মিলিমিটারের কিছু ইংরেজি ছবি দেখা হয়ে গেছে । জ্যোতি ছাড়াও ‘ এলিট ’ এবং ‘ গ্লোব ’— এও এই সত্তর মিলিমিটারের সিনেমা দেখা...