কাল -
কত রকম মানুষই যে দেখলাম এই
জীবনে...
যে দাদার কথা লিখছি কদিন ধরে
তার নাম দেওয়া যাক বাচ্চু।
তা এই বাচ্চু’দাকে নিয়েই ছিল আমাদের অফিস জীবন। বাচ্চু’দার আবার কিছু বাচ্চু বন্ধু আর ভাইরা ছিল। তার সব এক একটি মহামানব বলা চলে। শরৎচন্দ্র শুনতেন যদি তাহলে যে কতগুলো “মেজদা’র” মতো চরিত্র আমরা পেতাম তা কিছুটা অনুমান করতে পারি এই বয়সে এসে।
বাচ্চু’দার এক বাচ্চু বন্ধুর কথা বলি এবার। আমাদের অফিসের পাশেই ছিল একটা টেলারিং শপ। অনেকেই সেখানে জামা বা প্যান্ট বানাতেন। মজুরীও বেশ কম ছিল আর যেহেতু অফিস পাড়ায় তাই সুবিধেও ছিল অনেকেরই।
তা এই বাচ্চু বন্ধু হঠাৎ একখানা
প্যান্ট বানাতে দিয়েছিলেন নববর্ষ উপলক্ষে। সাধারনতঃ এপ্রিলের
মাঝামাঝি আমাদের বাংলা বছর শুরুর দিনটা পড়ে। রোজই চলতে
থাকে বাচ্চু বন্ধুর তাগাদা। একদিন দুপুরে
হঠাৎ সে শোনে যে আজ রাতেই তৈরী হয়ে যাবে প্যান্ট।
বিকেল বেলা সেদিন একটু ঝড় হয়েছিল। সাথে অল্প বৃষ্টিও। অফিস থেকে
বেরোতে একটু দেরীই হচ্ছিল সবার। বাচ্চু’দা বেরোতে যাবে এমন সময় সেই বাচ্চু বন্ধু হাজির।
- চলুন বাচ্চু দা। বাড়ি যাবেন তো ?
- হ্যাঁ যাবে তো, কিন্তু তুই তো যাবি দক্ষিণে আর আমি তো সল্ট লেকে।
- আরে তাতে কি ? চলুন না এক ভাঁড় চা খাওয়া যাক।
সামনেই রামের চায়ের দোকান। অর্ডার হোলো দু ভাঁড় চায়ের। গরম গরম চা খেতে বেশ ভালই লাগছিল ঐ বৃষ্টিঝরা সন্ধ্যায়। শেষ চুমুকটা দিয়েছে কি দেয়নি হঠাৎ বাচ্চু’দাকে সেই বন্ধু বলে উঠল...
- আরে বাচ্চু’দা দেখেছেন,ভুলেই গেছি।
- কি !
- আরে ওই প্যান্টটা তো হয়ে যাবে বলেছিল
সকালে। চলুন তো একবার দেখি।
- আরে কালকেই নিবি না হয়...
- না না চলুন চলুন।
অগত্যা যেতেই হয় ওই টেলারিং
এর দোকানে। বাচ্চু’দা গিয়ে দেখে যে মালিক বন্ধ করে দরজার বাইরে কাগজ জ্বালিয়ে ধূনো দিচ্ছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা !
- আরে দাদা,একবার
দেখান না প্যান্টটা। কেমন ফিটিং
হলো একটু দেখি না।
- এই তো দোকান বন্ধ করে দিলাম। কাল সকালে দেখবেন।
- আরে না না। প্লীজ একবার খুলুন না দোকান।
একে ঝড়বৃষ্টির সন্ধ্যে তার ওপর
একবার বন্ধ করে কে আর দোকান খুলতে চায়। অনেকক্ষন ধরে
বাচ্চু বন্ধুর আকুলি বিকুলি শুনে দোকান খুলতেই হলো তাঁকে। বেজার মুখে দোকান খুললেন আবার। যাক এই সন্ধ্যায় যদি মজুরীটা আসে।
খুলল দোকান। জ্বললো আলো। বেরোলো বাচ্চু
বন্ধুর প্যান্ট। উলটে পালটে দেখাও হলো সেটা।
- এবার প্যাক করে দিই। দোকানদার বললেন।
- না থাক, ঠিকই
আছে। কালকেই নেবো। বাচ্চু বন্ধুর উত্তর...
##
৪ঠা এপ্রিল,২০১৬